পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে গতি আনতে SFD ফান্ড ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের দাবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট (SFD)-এর কার্যক্রম ও তহবিল ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যবসায়ী সমাজে বাড়ছে অনাস্থা ও প্রশ্ন। গ্রিন রিফাইন্যান্স স্কিম, গ্রিন ফাইন্যান্স এবং GTA Fund-এর মতো পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন সহায়ক তহবিলের নিয়ন্ত্রণকারী এই বিভাগকে ঘিরে সম্প্রতি একাধিক উদ্যোক্তা তদবিরনির্ভর সিদ্ধান্ত, ফাইল প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং অর্থ ছাড়ে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন। ব্যবসায়ী ও শিল্পখাত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও অনেক ফাইল মাসের পর মাস অগ্রসর হয় না।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বারবার “রিভিউ চলছে” বা “আরও সময় লাগবে” বলা হলেও বাস্তবে সিদ্ধান্তে অস্বাভাবিক বিলম্ব দেখা যায়। একই সঙ্গে তাদের অভিযোগ, কিছু নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও অর্থ ছাড়ের ঘটনা ঘটছে, যা নীতিমালার সমান প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ফান্ড ছাড়ের ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ সামনে এসেছে। একাধিক ব্যবসায়ী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের তুলনামূলক ছোট অঙ্কের অর্থায়নের আবেদন ‘সামর্থ্য নেই’ বলে স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানানো হলেও, একই সময়ে কিছু প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের অর্থ ছাড়ের তথ্য তারা পেয়েছেন।

এসব ক্ষেত্রে কোন নীতিমালা ও প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় সন্দেহ ও বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করছেন। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে SFD বিভাগের পরিচালক চৌধুরী লিয়াকত আলীর নাম। উদ্যোক্তাদের একটি অংশের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দায়িত্ব পালন করে আসছেন, যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস হয়ে থাকে। তাদের মতে, একটি সংবেদনশীল ও প্রভাবশালী বিভাগে দীর্ঘ সময় একই কর্মকর্তার অবস্থান স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন উত্থাপন করে।

তাদের অভিযোগ, বিভাগে অনেক ফাইল দীর্ঘদিন পড়ে থাকলেও তিনি নিয়মিত বিদেশ সফরে থাকেন, যা বিভাগীয় কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে কি না—সে বিষয়টি নিয়েও তারা ব্যাখ্যা চান। তবে এসব সফরের প্রয়োজনীয়তা ও অনুমোদনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। শিল্পখাত সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্রিন ফাইন্যান্স, রিফাইন্যান্স স্কিম ও GTA Fund দেশের উদ্যোক্তাদের জন্য শুধু আর্থিক সহায়তা নয়; বরং আন্তর্জাতিক মানের কমপ্লায়েন্স, আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

এই প্রক্রিয়ায় যদি স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত না হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের শিল্পায়ন ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়ী সমাজের একটি অংশ SFD বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবি, কোন প্রতিষ্ঠান কত টাকা পেয়েছে, কোন নীতিমালার ভিত্তিতে পেয়েছে এবং ফাইল প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণ কী—এসব বিষয়ে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ফাইল প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর দাবিও তুলেছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *