হঠাৎ বদহজম বা ডায়রিয়া হলে কী করবেন

রোজার সময় আমাদের খাওয়াদাওয়া একটা নিয়মকানুনের মধ্যে চলে আসে। এরপর ঈদের আনন্দে হঠাৎ ভারী খাবার খেয়ে অনেকেই পেটের সমস্যায় ভোগেন। বদহজম, ডায়রিয়া, পাতলা পায়খানা, বমি…গ্যাসের সমস্যার কারণে অনেকে পেটের অস্বস্তিতেও কষ্ট পান। এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে কীভাবে? প্রতিরোধের উপায়ই–বা কী?

সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য কিছু নিয়ম পালনের চেষ্টা করতে পারেন:
১. দিনের শুরুতে ঈদের নামাজের আগে হালকা খাবার খান।
২. সারা দিনে অল্প অল্প করে খাবার খান, একেবারে পেট পুরে খাবেন না।
৩. দুধজাতীয় খাবার, কফি ও গুরুপাক খাবারগুলো যতটুকু সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
৪. পানি এক বা দুই গ্লাস করে সারা দিনে ১০ থেকে ১২ গ্লাস (অসুস্থতার কারণে পানি খেতে বারণ না থাকলে) খাবেন।
৫. রিকশা বা গাড়ি ব্যবহার না করে একটু হাঁটার চেষ্টা করুন।
৬. খাবারের মধ্যে একটু বিরতি দিন। উপর্যুপরি খাবেন না।

 

ঈদের দিন বা ঈদের পর সবচেয়ে বেশি যে সমস্যা দেখা দেয়, তা হলো বদহজম। বদহজম বা গন্ধযুক্ত ঢেকুর হলে হাতের কাছে সিরাপ পিঙ্ক–বিসমল বা পেপটোসিড রাখতে পারেন। সমস্যা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চার থেকে ছয় চা–চামচ আধা ঘণ্টা পরপর খেতে হবে। তবে অবশ্যই সারা দিনে আটবারের বেশি খাওয়া যাবে না। আর এটা খেলে পায়খানা কালো হতে পারে, ভয় পাবেন না। নিয়মিত কোনো ওষুধ থাকলে সেটা খাবেন এই ওষুধ খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর।
বমি ভাব বা বমি হলে এমিসট্যাট–জাতীয় বমির ওষুধ খেতে পারেন। প্রতিবার বমির জন্য দুই গ্লাস করে ওরস্যালাইন খাওয়ার চেষ্টা করুন। আগে বমির ওষুধ খেতে হবে, এর আধা ঘণ্টা বা ৪০ মিনিট পরে ওরস্যালাইন খাওয়া শুরু করবেন।
হালকা পেটব্যথা থাকলে অ্যান্টিস্পাসমোডিক ওষুধ কাজে লাগতে পারে। পাতলা পায়খানা হলে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানিজাতীয় খাবার খেলেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে সুস্থ হয়ে যাবেন। অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন নেই। প্রতিবার পাতলা পায়খানার জন্য দুই গ্লাস করে ওরস্যালাইন খাবেন। এ সময় সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন, যেমন জাউভাত, চিড়া, কলা ইত্যাদি। যাঁরা ওরস্যালাইন খেতে পারেন না, তাঁরা ডাবের পানি, বাসার তৈরি লবণ ও চিনির শরবত, বাজারে কিছু স্পোর্টস ড্রিংকস পাওয়া যায়, সেগুলো কিংবা ইলেকট্রোলাইট ড্রিংকস খেতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, প্রতিবার পায়খানা বা বমির জন্য অন্তত ৫০০ মিলিলিটার, মানে দুই গ্লাস খেতে হবে।
খাবার পরে যাঁদের পেট ফেঁপে যাচ্ছে বা গ্যাস হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে, তাঁরা উপসর্গ হলেই সিরাপ গ্যাভিসল বা গ্যাভিলাক এম চার চামচ করে খেয়ে নিতে পারেন। দিনে চারবার পর্যন্ত এটা খেতে পারবেন। তবে মনে রাখতে হবে, এটা খেলে পাতলা পায়খানা হতে পারে।
তীব্র পেটব্যথা, জ্বর, দুর্বলতা, পেট অত্যধিক ফুলে যাওয়া, শরীরে ব্যথা কিংবা শরীরে লবণের ঘাটতি দেখা দিলে দ্রুত কাছের হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
সংযমের মাস শেষে অসংযমী খাবারদাবার আমাদের অসুস্থতা ও বিপদের কারণ হতে পারে। তাই এ দিনটা একটু সাবধানে চলতে পারলে আমরা ঈদের খুশিটা আনন্দের সঙ্গে পার করতে পারব।

 

Tushar Ghosh | 30.03.2025

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *