এই দুই দেশের মধ্যে বর্তমান এই সহিংসতার বিস্ফোরণ গত কয়েক মাসের উত্তেজনার চূড়ান্ত পরিণতি।
২০২৫ সালের অক্টোবরে সীমান্তে সপ্তাহব্যাপী ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় আফগানিস্তান ও পাকিস্তান তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের এই সীমান্ত ‘ডুরান্ড লাইন’ নামে পরিচিত, যা ২ হাজার ৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ। আফগানিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে এই সীমান্তকে স্বীকৃতি দেয়নি। তাদের যুক্তি, এটি একটি ঔপনিবেশিক সীমানা, যা জাতিগত পশতুন এলাকাগুলোকে অন্যায়ভাবে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে।

তালেবান ২০২১ সালে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতা দখলের পর থেকে প্রতিবেশী এই দুই দেশ ঘন ঘন সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সামি ওমারি আল-জাজিরাকে জানান, ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী প্রত্যাহারের পর থেকে আফগান ও পাকিস্তানি বাহিনীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭৫টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
পাকিস্তান চায়, আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করুক। পাকিস্তানের দাবি, আফগানিস্তান এসব গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে। ২০০৭ সালে পাকিস্তানে টিটিপির উদ্ভব হয়। তারা আফগান তালেবান থেকে আলাদা। কিন্তু দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গভীর আদর্শিক, সামাজিক ও ভাষাগত সম্পর্ক রয়েছে।
বেশ কয়েক বছর ধরে টিটিপি এবং খনিজ সমৃদ্ধ বেলুচিস্তান প্রদেশে সক্রিয় বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) পাকিস্তানে সশস্ত্র হামলা বৃদ্ধি করেছে। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখাওয়া এবং বেলুচিস্তান প্রদেশে তারা বেশি হামলা চালায়।
নিরপেক্ষ সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটার (এসিএলইডি) দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক পার্ল পান্ড্য আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আফগান তালেবান টিটিপির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সম্ভবত ইচ্ছুক নয়। দুই গোষ্ঠীর পুরোনো সখ্যের পাশাপাশি টিটিপির যোদ্ধারা আফগানিস্তানে তালেবানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্সে (আইএসকেপি) যোগ দিতে পারে—এমন একটি ভয় আফগান তালেবানের রয়েছে।’
পান্ড্য যোগ করেন, আফগান তালেবান টিটিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের সংঘাত ‘অপরিহার্য’।
ওয়াশিংটনভিত্তিক চিন্তক প্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া প্রোগ্রামের পরিচালক এলিজাবেথ থ্রেলকেল্ড আল-জাজিরাকে বলেন, এই সংঘর্ষ অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়। এটি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে কয়েক মাসের ‘উত্তেজনাপূর্ণ’ সম্পর্কের ফল।
থ্রেলকেল্ডের মতে, পাকিস্তানের এই ‘অধিকতর আক্রমণাত্মক ও জোরালো হামলা’ সম্ভবত তাদের কৌশল পরিবর্তনের ইঙ্গিত। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা পাকিস্তানের ভেতরে বেশ কয়েকটি বড় সন্ত্রাসী হামলা হতে দেখেছি। তাই ক্রমাগত হামলার পর উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছানো এবং পরিস্থিতির এমন অবনতি হওয়া দুর্ভাগ্যজনক হলেও বিস্ময়কর নয়।’